Friday, June 12, 2026

ময়মনসিংহ শহরের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা:


আবাসন নিউজ ডেস্ক : ময়মনসিংহ শহরের দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে কঠিন বর্জ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। কিন্তু বিদ্যমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উন্নত না করতে পারলে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পাবে, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে, ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা সমস্যা তীব্র হবে, এবং নগরের সামগ্রিক বাসযোগ্যতা হ্রাস পাবে। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সমুহ হচ্ছেঃ 


• অদক্ষ বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা:
শহরের অনেক এলাকায় নিয়মিত ও কার্যকর বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা নেই। ফলে গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য নির্ধারিত সময়ে অপসারণ করা সম্ভব হয় না। 
• উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলা ও অনিয়ন্ত্রিত ডাম্পিং:
রাস্তার পাশে, খোলা জায়গায়, খাল ও জলাশয়ের তীরে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা এখনও বিদ্যমান। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়। 
• বর্জ্য পৃথকীকরণের অভাব:
জৈব, অজৈব, প্লাস্টিক, চিকিৎসা বর্জ্য এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ একই সাথে ফেলা হয়, ফলে পুনর্ব্যবহার (Recycling) এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। 
• অপর্যাপ্ত নিষ্পত্তি ব্যবস্থা:
আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিলের অভাব এবং বৈজ্ঞানিক বর্জ্য নিষ্পত্তি পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ পানির দূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। 
• প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা:
প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি, আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার ঘাটতি কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। 
• জনসচেতনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণের অভাব:
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ এবং অংশগ্রহণ এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। 

সম্ভাব্য সমাধান: 
ময়মনসিংহ শহরে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই Integrated Solid Waste Management System (ISWM) গড়ে তোলা প্রয়োজন।
• ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ:
শহরের সকল ওয়ার্ডে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং সংগ্রহ কার্যক্রমকে ডিজিটাল মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। 
• উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ (Source Segregation):
গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার পর্যায়ে জৈব, পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং অবশিষ্ট বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহের ব্যবস্থা চালু করতে হবে। 
• স্যানিটারি ল্যান্ডফিল স্থাপন:
পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করে একটি আধুনিক Sanitary Landfill Facility প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 
• রিসাইক্লিং ও রিসোর্স রিকভারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা:
পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য Material Recovery Facility (MRF) স্থাপন করা যেতে পারে।
এর মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব। 
• জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট উৎপাদন:
ময়মনসিংহের বাজার ও গৃহস্থালি উৎস থেকে উৎপন্ন জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে কম্পোস্ট সার উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে, যা কৃষি খাতেও সহায়ক হবে। 
• বর্জ্য থেকে জ্বালানি (Waste-to-Energy) সম্ভাবনা মূল্যায়ন:
দীর্ঘমেয়াদে বর্জ্যের পরিমাণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় Waste-to-Energy প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ মূল্যায়ন করা যেতে পারে। 
• অবৈধ ডাম্পিং ও বর্জ্য ফেলা নিয়ন্ত্রণ:
খাল, জলাশয়, রাস্তার পাশ এবং উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর মনিটরিং, জরিমানা এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। 
• জনসচেতনতা ও কমিউনিটি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি:
স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার কমিটি, নাগরিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। 
• প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি:
সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখাকে আধুনিক যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে। 
• বেসরকারি খাত ও কমিউনিটি অংশীদারিত্ব:
বর্জ্য সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার এবং কম্পোস্টিং কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও সামাজিক উদ্যোগকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

অতএব, উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ, আধুনিক সংগ্রহ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, পুনর্ব্যবহার এবং নাগরিক অংশগ্রহণভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব নগর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

Super Admin

Super Admin

Please Login to comment in the post!

you may also like