- by Super Admin
- Mar 19, 2026
আবাসন নিউজ ডেস্ক : (২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত) গত সাড়ে ৬ বছরে রাজধানীতে ১৮৪৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৮৪ জন নিহত এবং ২৪৮৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে পুরুষ ১০৩৪ জন (৭৪.৭১%), নারী ২১৯ জন (১৫.৮২%) এবং শিশু ১৩১ জন (৯.৪৬%)।
দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ধরণ:
নিহতদের মধ্যে পথচারী ৫৯২ জন (৪২.৭৭%), মোটরসাইকেল আরোহী ৫৩৬ জন (৩৮.৭২%) এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও যাত্রী ২৫৬ জন (১৮.৪৯%)।
দুর্ঘটনার সময় বিশ্লেষণ:
দুর্ঘটনার সময় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়- ভোরে ১৪২ জন (১০.২৬%) সকালে ২৫৮ জন (১৮.৬৪%), দুপুরে ১৯৫ জন (১৪.০৮%), বিকালে ১৭৪ জন (১২.৫৭%), সন্ধ্যায় ৯৬ জন (৬.৯৩%), এবং রাতে ৫১৯ জন (৩৭.৫%) দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহন:
রাজধানীতে দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে বাস ২১.৭৫%, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্যাং
দুর্ঘটনা পর্যালোচনা:
দুর্ঘটনাসমূহ রাতে এবং সকালে বেশি ঘটেছে। বাইপাস রোড না থাকার কারণে রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীতে মালবাহী ভারী যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারে পথচারীরা বেশি নিহত হচ্ছেন। এছাড়া দীর্ঘসময় যানজটের কারণে যানবাহন চালকদের আচরণে অসহিষ্ণুতা ও ধৈর্য্যহানী ঘটছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে কাজ করছে।
মন্তব্য:
রাজধানীতে যানবাহনের তুলনায় অপ্রতুল সড়ক, একই সড়কে যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক, স্বল্প ও দ্রুত গতির যানবাহনের চলাচল, ফুটপাত হকারের দখলে থাকা, ফুটওভার ব্রিজ যথাস্থানে নির্মাণ না হওয়া ও ব্যবহার উপযোগী না থাকা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার কারণে অতিমাত্রায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং বিমানবন্দর সড়ক দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজধানীর পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পনী-ভিত্তিক বাস-সার্ভিস চালু করতে হবে। বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, সিটি করপোরেশন এবং ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বহুমুখি কার্যক্রম পরিচালনা করা অতীব জরুরি।