Saturday, June 13, 2026

যাত্রীর অভিযোগে ভোক্তা অধিকার আইনে পুলিশ বিভাগের মোবাইল কোর্ট বসিয়ে বাসের জরিমানা


আবাসন নিউজ ডেস্ক : নাটোর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসে অধিক ভাড়া আদায় এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনে বাসের মধ্যে একজন যাত্রী ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে বাসে বসে থেকেই তার মোবাইলে অভিযোগ পাঠান। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৎক্ষনাৎ ভোক্তা অধিদপ্তর সড়ক পরিবহন দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে অভিযোগ কৃত বাসটিকে টাঙ্গাইল এবং ঢাকার সীমানা পয়েন্ট কালিয়াকৈর আটক করতে সক্ষম হয়। যাত্রীদের অভিযোগ সত্যতা সাপেক্ষে বাসের প্রতি যাত্রীকে ৩০০/- ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়। এবং বাসটিকে ৩০০০/- জরিমানা করা হয়। 
সাধারণ মানুষ সচেতন হলে আইন বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়। 
জনসচেতনতার জন্য বাস যাত্রীর অভিযোগ পত্রটি আবাসন নিউজ এ হুবুহু প্রকাশ করা হলো।

তারিখ:০৪/০৬/২০২৬
বরাবর,
মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বিষয়: অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, প্রতারণা ও সড়ক পরিবহণ আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে।
জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মোঃ নাহিদ হোসাইন, পিতা: মোঃ সেকেন্দার আলী, বর্তমান ঠিকানা: ১৫১/১২, মুক্তি হাউজিং, দক্ষিণ পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা। আমি “বনলতা এক্সপ্রেস” নামক যাত্রীবাহী বাসের H2 সিটের যাত্রী।

উক্ত বাসটির কোচ নং-১৭ এবং গাড়ির নম্বর: নাটোর-ব ১১-০০১৭। বাসটি আজ সকাল আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটে নাটোর বাস টার্মিনাল হতে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। টিকিট ক্রয়ের সময় গাবতলী পর্যন্ত যাত্রার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে বাসে উঠে জানতে পারি যে, বাসটি নবীনগরের পর আর যাবে না। অথচ গাবতলী পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া হিসেবে আমার নিকট হতে ৬০০/- টাকা আদায় করা হয়েছে, যা নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অতিরিক্ত বলে প্রতীয়মান হয়।

বাসে উঠে আমি লক্ষ্য করি যে, বাসটিতে যাত্রী ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে এবং প্রায় ২০ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাত্রা করছে। এছাড়াও বাসটি বিভিন্ন স্থানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে থামিয়ে লোকাল যাত্রী উঠাচ্ছে। অতিরিক্ত গরমের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মধ্যে যাত্রা করতে হচ্ছে।

আমরা একাধিক যাত্রী বাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজারকে বিনীতভাবে অনুরোধ করি যেন আর দাঁড়ানো যাত্রী না তোলা হয়। কিন্তু তিনি অত্যন্ত রূঢ় ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বলেন যে, “ঈদের সময় এভাবেই যেতে হবে, এটাই নিয়ম।” তাঁর এই আচরণ যাত্রীসেবার পরিপন্থী এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

এছাড়াও টিকিটে কোনো অভিযোগ নম্বর, অফিসের ঠিকানা বা যোগাযোগের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি, যা ভোক্তা অধিকার পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হয়। বিষয়টি কাউন্টারে অবগত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

উপরোক্ত কার্যক্রম বাংলাদেশের সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনসহ প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আমি মনে করি। অতএব, জনস্বার্থ ও যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে উক্ত গাড়িটির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

গাড়িটির অবস্থান দ্রুত শনাক্তের সুবিধার্থে আমি আমার Android মোবাইলের মাধ্যমে Google Map Live Location শেয়ার করেছি।

অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরিতঃ

১। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
২। আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশ।
৩। চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা।
৪। মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
৫। পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট), বিআরটিএ।
৬। দায়িত্বরত কর্মকর্তা
হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ।

অভিযোগকারী
মোঃ নাহিদ হোসাইন
যাত্রী, সিট নং-H2

Super Admin

Super Admin

Please Login to comment in the post!

you may also like