- by Super Admin
- Mar 12, 2026
আবাসন নিউজ ডেস্ক: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)-বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ৩ আগস্ট ২০২৬, রাজশাহীর হোটেল এক্স-এর কনফারেন্স রুমে একটি সংলাপের আয়োজন করে২৪। এ সংলাপে মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ মোট ২৭ জন অংশগ্রহণ করেন।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র, জবাবদিহি, আইনের শাসন ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। ভয়ভীতি, হয়রানি বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়া আইনসম্মতভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় গুজব, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, অনলাইন হয়রানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর তথ্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতা, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক চর্চা জোরদার করা প্রয়োজন।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), বাংলাদেশ-এর হিউম্যান রাইটস অফিসার মো. জাহিদ হোসেন ‘মানবাধিকারের মৌলিক নীতি: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য’ শীর্ষক উপস্থাপনা করেন। তিনি মানবাধিকারের মৌলিক নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিধি এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার হলেও তা অন্যের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার সুযোগ দেয় না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার পাশাপাশি বৈষম্য, শত্রুতা বা সহিংসতায় উসকানি দেয় এমন ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রতিরোধেও মানবাধিকারসম্মত ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। এ বিষয়ে তিনি রাবাত প্ল্যান অব একশনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আশা প্রকাশ করে যে, এ ধরনের সংলাপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ জোরদার এবং রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের পরিসর সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি অধিকতর মানবাধিকারসম্মত, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।