- by Super Admin
- Mar 19, 2026
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর উদ্যোগে অদ্য ১৩ জুন ২০২৬ (শনিবার) সকাল ১০:৩০ মিনিটে রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে অবস্থিত বিআইপি কনফারেন্স হলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘জলবায়ু-সহনশীল এবং পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বিআইপি’র সহ-সভাপতি-১ পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসানের সঞ্চালনায় এবং বিআইপি’র সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উক্ত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) ড. নুরুন নাহার এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের যুগ্মপ্রধান (ডেল্টা অনুবিভাগ) ড. এস এম যোবায়দুল কবির। এছাড়াও সেমিনারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর বোর্ড সদস্যবৃন্দ, পরিকল্পনাবিদ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. ফারহানা আহমেদ তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহের মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পরিকল্পনাবিদ নাঈমা ইসলাম মিম মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চল, বিশেষ করে সাভার অঞ্চলে বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। শিল্পকারখানা থেকে নির্গত PM2.5, CO₂, SO₂, NOx এবং বিভিন্ন ভারী ধাতু বায়ুর গুণগত মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর ‘Lichen-Based Bio Management of Industrial Air Pollution’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা গেছে, লাইকেন বাতাস থেকে সীসা (Pb) ও তামা (Cu)-এর মতো ভারী ধাতু শোষণ করতে সক্ষম এবং বায়ুমানের পরিবর্তন শনাক্তে কার্যকর জৈব নির্দেশক (Bio-indicator) হিসেবেও কাজ করতে পারে।
অন্য একটি মূল প্রবন্ধে মো. শিবলী সাদিক, পিএইচডি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ‘Implementability’ ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জলবায়ু কর্মসূচি প্রণয়ন ও মূল্যায়নের শুরু থেকেই Implementability Assessment অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। Motivation and Ability (MOTA) Framework ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা, আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ মূল্যায়নের মাধ্যমে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা সম্ভব।
জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ ড. হাসীব মুহাম্মদ ইরফানউল্লাহ বলেন, ২০১৬ সাল থেকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য তহবিল গঠনের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তিনি পরিকল্পনা প্রণয়নে স্থান (Space) ও জীববৈচিত্র্যের আন্তঃসম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের যুগ্মপ্রধান (ডেল্টা অনুবিভাগ) ড. এস এম যোবায়দুল কবির বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রতিটি পরিকল্পনায় সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক—এই তিনটি স্তম্ভের সমন্বয় থাকতে হবে। তিনি অংশীজনদের (Stakeholders) সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি ড. নুরুন নাহার বলেন, অনেক প্রকল্পে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) না হওয়ায় বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এজন্য একটি মানসম্মত নির্দেশিকা (Standard Document) প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সবাই একই কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে পারে। তিনি উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে পরিকল্পনাবিদদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিআইপি’র সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান বলেন, ২০২৬ সালে এসে শিল্পায়ন ও নগরায়নের অজুহাতে পরিবেশ দূষণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, বিআইপি পরিকল্পনাবিদদের পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে একটি পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশসম্মত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইপি’র যুগ্ম সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ কাজী সালমান হোসেন, কোষাধ্যক্ষ পরিকল্পনাবিদ আবু ছালেহ মো. শহীদুল্লাহ, বোর্ড সদস্য পরিকল্পনাবিদ শুভ কান্তি পোদ্দার, পরিকল্পনাবিদ হোসনে আরা আলো, পরিকল্পনাবিদ তালহা তাসনিমসহ ইনস্টিটিউটের অন্যান্য সিনিয়র সদস্যবৃন্দ।