Tuesday, July 28, 2026

হবিগঞ্জে খোয়াই নদী পুকুর - জলাশয় রক্ষায় আলোচনা সভা: নাগরিক ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের তাগিদ


আবাসন নিউজ ডেস্ক :  হবিগঞ্জে “খোয়াই নদী রক্ষায় নাগরিক আন্দোলন, প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও বাস্তবতা” বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১ মে শুক্রবার বিকেল ৪ টায় হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখার উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাপা হবিগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার সভাপতি অধ্যাপক মোঃ ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহম্মদ জহিরুল হক। সভার শুরুতে খোয়াই, পুরাতন খোয়াই নদীর বর্তমান সংকট, অবৈধ দখল- দূষণ ও পুকুর- জলাশয় নিয়ে একটি বিস্তারিত মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বাপা হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল।

আলোচনা সভায় খোয়াই নদীর নাব্যতা সংকট, শহরের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি, পুরাতন খোয়াই নদী, বাইপাস সড়কের খাল, পুকুর - জলাশয় এর বর্তমান অবস্থা গুরুত্বের সাথে উঠে আসে।

আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের সহ-সভাপতি এডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন,  কবি ও কলামিস্ট তাহমিনা বেগম গিনি, হবিগঞ্জ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শাহীন, ‘গাছমামা’ হিসেবে পরিচিত মোঃ রায়হান, সামাজিক সংগঠন বটতলা’র সাধারণ সম্পাদক হাসবী সাঈদ চৌধুরী, ‘বিডিক্লিন’- এর সংগঠক সোহাগ গাজী প্রমুখ।

সভায় তোফাজ্জল সোহেল বলেন, "খোয়াই নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে দেখছি যে, প্রশাসনিক কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার যথাযথ বাস্তবায়ন ও ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। নদী দখলমুক্ত করা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জরুরি।
তিনি বলেন, হবিগঞ্জ জলাবদ্ধতার শহর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। শহরের বারিপাত অঞ্চল পুরাতন খোয়াই, বাইপাস সড়ক সংলগ্ন খাল, পুকুর - জলাশয় ভরাট -দখল হয়ে যাওয়ার কারণেই এমনটি হচ্ছে। 
আমরা জানতে পেরেছি গত ১৫ এপ্রিল পরিকল্পনা কমিশন 'পুরাতন খোয়াই নদী রেস্টোরেশন প্রকল্প' অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পে নদীর ৪ কিলোমিটার অংশে দখল উচ্ছেদ, খনন, ওয়াকওয়ে ও ৩ টি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এই প্রকল্পে। নির্মোহ সীমানা নির্ধারণ করে এটি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং হবিগঞ্জের বাইপাস সড়কের উভয় পাশের খাল খনন, পুকুর জলাশয় গুলোর সীমানা নির্ধারণ করে বিজ্ঞানভিত্তিক সংস্কার এর মাধ্যমে প্রাকৃতিক অবস্থা বজায় রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন আমরা কেবল কাগজ-কলমে সমাধান চাই না, খোয়াই, পুরাতন খোয়াই নদীকে তার স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত ও পুকুর জলাশয়গুলো প্রাকৃতিক পরিবেশ রাখার জন্য বাস্তবমুখী এবং টেকসই পরিকল্পনা ও এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।"

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাপার আজীবন সদস্য ও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, নদীকে কেবল পানি প্রবাহের পথ বা পানির আধার হিসেবে দেখলে হবে না; বরং একটি জনপদের পরিবেশের ভারসাম্য, কৃষি ব্যবস্থা, নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি পুনঃচক্র এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বজায় রাখাসহ এলাকার সার্বিক অর্থনীতি, সাহিত্য সংস্কৃতি ও সভ্যতার অংশ। হবিগঞ্জের সার্বিক পরিবেশ নির্ভর করে নদ-নদীগুলোর ভালো থাকার উপর। খোয়াইসহ সকল নদ-নদী দখল ও দূষনমুক্ত করে নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে না আনলে হবিগঞ্জের পরিবেশ বিপর্যয় আরো ভয়াবহ হবে।

সভায় হবিগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা খোয়াই নদীর গতিপথ রক্ষা এবং শহরের বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

Super Admin

Super Admin

Please Login to comment in the post!

you may also like